1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
ব্যবসা ও মুনাফা ধস টেকনো ড্রাগসের - Business Protidin

ব্যবসা ও মুনাফা ধস টেকনো ড্রাগসের

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনো ড্রাগস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরপরই ব্যবসায়িক চাপে পড়তে শুরু করেছে। শুধু মুনাফা ও বিক্রয় রাজস্ব কমাই নয়, কোম্পানিটি প্রফিটের নির্ধারিত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের না দিয়ে আয়কর আইনও লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টেকনো ড্রাগস ২০২৪ সালের মধ্যভাগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির আগে ৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ২৮ কোটি ৬ লাখ ২ হাজার ৫০৯ টাকা। তালিকাভুক্তির পরবর্তী অর্থবছর, অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত বছরে নিট মুনাফা নেমে আসে ২৩ কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার ৮১০ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৯ টাকা, যা প্রায় ১৭ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মুনাফা কমার পাশাপাশি লভ্যাংশ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফার ৩০ শতাংশ লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ২৪৩ টাকা। তবে বাস্তবে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের দিয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮ টাকা। নিট প্রফিটের অবশিষ্ট ১৮ কোটি ২৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকা রিটেইন্ড আর্নিংসে রেখে দেওয়া হয়েছে।

২০১৯–২০ অর্থবছরের আয়কর পরিপত্র অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। এই হার পূরণ না হলে, রিটেইন আর্নিংসে রাখা বা কোম্পানিতে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। সে হিসেবে টেকনো ড্রাগসের সরকারকে দেওয়ার কথা ১ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮২ টাকা, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে কোম্পানিটি আয়কর আইন লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারল্য সংকটও রয়েছে কোম্পানিটিতে। ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরের ঘোষিত লভ্যাংশের শতভাগ এখনো বিতরণ করতে পারেনি টেকনো ড্রাগস। কোম্পানিটির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই অর্থবছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের অবশিষ্ট ৯৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

অন্যদিকে মুনাফার পাশাপাশি বিক্রয় রাজস্বেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে টেকনো ড্রাগসের বিক্রয় রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬২ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ১৯৬ টাকা। এক বছরে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ২৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৪ টাকা বা প্রায় ৭ শতাংশ।

একই সঙ্গে কোম্পানিটির অ্যাকাউন্টস রিসিভেবলস বা পাওনা অর্থও বেড়েছে। ৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে রিসিভেবলস ছিল ৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৫১৫ টাকা, যা সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার ২০৯ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে রিসিভেবলস বেড়েছে ১৮ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ৬৯৪ টাকা বা ১৯ শতাংশ।

এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ) জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৯ টাকা এখনো কোম্পানির কাছেই রয়েছে। কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কর-পূর্ববর্তী মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মচারীদের কল্যাণে ডব্লিউপিপিএফে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ফলে টেকনো ড্রাগস একদিকে যেমন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করেছে, অন্যদিকে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com