নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রমে নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসি।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এমএফ অ্যান্ড সিআইএসএস বিভাগ থেকে ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটির অধীন পরিচালিত বিভিন্ন মিউচ্যুয়াল ফান্ড কিছু কোম্পানির শেয়ারে অনুমোদিত সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করেছে বলে কমিশনের কাছে তথ্য এসেছে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোনো একক কোম্পানিতে তার মোট সম্পদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সীমা অতিক্রম করা বিনিয়োগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের নাম, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং সীমা ছাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ভিআইপিবির ব্যবস্থাপনার অধীনে থাকা প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের করা বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। বিশেষ করে যেসব সিকিউরিটিজে সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে সেই তথ্য দিতে হবে। যেখানে যেখানে একক কোম্পানিতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা (অর্থাৎ ফান্ডের মোট সম্পদের ১০ শতাংশ) অতিক্রম করা হয়েছে (টেবিল-১ অনুযায়ী)। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিকিউরিটিজগুলোতে মোট বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্যও প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, তাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল) বিধিমালা, ২০২৫, এর অধীনে নির্দেশনা জারির তারিখ থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে উপরোক্ত তথ্য এবং সহায়ক নথিপত্র সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
ভিআইপিবির মোট ছয়টি ফান্ড রয়েছে সেগুলো হলো- ভিআইপিবি অ্যাক্সেলেরেটেড ইনকাম ইউনিট ফান্ড, ভিআইপিবি গ্রোথ ফান্ড, ভিআইপিবি ব্যালান্সড ফান্ড, ভিআইপিবি এসইবিএল প্রথম ইউনিট ফান্ড, ভিআইপিবি এনএলআই প্রথম ইউনিট ফান্ড এবং ভিআইপিবি ফিক্সড ইনকাম ফান্ড।
আইনে বলা আছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড তহবিলের ১০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকার ফান্ড হলে একটি শেয়ারে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানো বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগে সীমা লঙ্ঘন হলে ঝুঁকি কেন্দ্রীভূত হয়, যা ইউনিটহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। অনেক সময় বাজার পরিস্থিতি বা শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এমন হলে দ্রুত সমন্বয় করা এবং নিয়ন্ত্রককে অবহিত করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিএসইসির এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনায় আরো সতর্কতা আনবে।
Leave a Reply