বীমা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় একটি খাত। বর্তমানে এ খাতে অনেক দক্ষ ও মেধাবীরা আসছেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ফিনটেক, ইন্স্যুরেন্সটেক ও এমএফএস (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস), অনলাইনপেমেন্ট সার্ভিস বীমা খাতকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। সমস্যাটি হচ্ছে, অনেকে বীমা বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখে। যদিও বীমা একটি আর্থিক খাত। ব্যাংকের মতোই বীমাতেও সেবার বিষয়টি জড়িত। অনলাইন লেনদেনের আগ পর্যন্ত গ্রাহকের জন্য বীমা পলিসি করা ও পেমেন্ট জমা দেয়া বড় ধরনের চ্যালঞ্জ ছিল। কেননা এজেন্টকে গ্রাহকের কাছে যেতে ও পেমেন্ট সংগ্রহ করতে হতো। অনেক সময় গ্রাহকের অভিযোগ কোম্পানি পর্যন্ত পৌঁছত না। বর্তমানে অ্যাপ বা কার্ডের মাধ্যমেই গ্রাহক তার পেমেন্ট জমা দিতে পারছেন। ঘরে বসে দেখতে পারছেন কতটা প্রিমিয়াম ও বোনাস জমা হয়েছে ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এক ধরনের স্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বীমা খাত ঘিরে আমি খুবই আশাবাদী।
বীমা শিল্পের প্রতিবন্ধকতাগুলো কী?
স্বাধীনতা-পরবর্তী একটি করে জীবন বীমা করপোরেশন ও সাধারণ বীমা করপোরেশন হয়। এর বাইরে বীমার সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। একই সময় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১০-১৫টি ব্যাংক ছিল। তাছাড়া ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক দক্ষ মানুষ ছিলেন। বিপরীতে বীমা খাতে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরা কম ছিলেন। ১৯৮৫ বেসরকারীকরণ হলেও বীমা সেক্টরকে উন্নত করার মতো জনবল আমাদের ছিল না। সে পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বীমা খাত ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০০০ সালে বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিলেও পার্থক্যটা হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে তারা বিদেশী অংশীদার আনার সুযোগ দিয়েছে। ফলে তাদের বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পুরনো বিদেশী কোম্পানির অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে এবং বিদেশী প্রযুক্তি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে তারা কাজ করছে। সেজন্য ওদের খাত যতটা এগিয়েছে, আমরা ততটা অগ্রসর হতে পারিনি।
বীমা খাতে অন্যান্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
বীমা সম্পর্কিত বার্তাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের অর্থ কোথায় রাখবেন; ব্যাংকে, বীমা কোম্পানিতে নাকি লিজিং কোম্পানিতে? আর্থিক খাতের জ্ঞান আসলে আমাদের খানিকটা কম রয়েছে। এর ওপর বীমা খাত সম্পর্কে জানাশোনাটা আরো কম। অথচ বীমা আমাদের জীবনকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে। এ বিষয়গুলোকে যদি আমরা মানুষকে বোঝাতে পারি, তাহলে এ খাতের উন্নতি হবেই। উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের গাড়ি-বাড়ি থেকে প্রায় সবকিছুই ইন্স্যুরেন্স করা। ওদের অবসর পরিকল্পনা থাকে। আমরা বলছি, অবসর পরিকল্পনাটা সবার জন্য খুবই জরুরি। ৬০ বছর বয়সে চাকরি শেষে কী হবে, আমাদের তা ভাবতে হবে। এ ধরনের অনেক কাজের সুযোগ বীমা খাতে আছে। আমরা যদি এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে পারি, নিশ্চিতভাবে আমাদের জন্য বড় ধরনের বাজার অপেক্ষা করছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে বীমা খাতে লোক নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিখিয়ে-পড়িয়ে গড়ে তোলাটাও আমাদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে বীমা সেক্টরে কাজ করলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিও এক ধরনের দায়িত্ব পালন করা হয়।
মানুষের কাছে বীমার বিষয়টা পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের সব ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যদি বীমাকে মানুষের কাছে নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে। বা ব্যাংকাসুরেন্সের প্রসার বাড়ানো যায়, এছাড়া আমাদের নীতিনির্ধারক সংস্থার কাছে যদি করপোরেট এজেন্টরা আসে, সেক্ষেত্রে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, এনজিও তারা বীমা বিক্রির চ্যানেল হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন ব্যাংকের সঙ্গে বীমার চ্যানেলের মাধ্যমে এটি যে শুধু বীমার আয় বাড়াবে তা নয়, তারাও কমিশনপ্রাপ্তির মাধ্যমে লাভবান হবে।
Leave a Reply