1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
৬ মাসে সরকারের সুদ পরিশোধে ব্যয় ৭১ হাজার কোটি টাকা - Business Protidin
শিরোনাম :
তিন মাসে ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান ইসলামী ব্যাংকের লক্ষীপুরে প্রোটেক্টিভ লাইফের বীমা দাবী পরিশোধ ও উন্নয়ন সভা ২০ কোটি টাকার বেশি সব ঋণ যাচাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল লাইফের ৩৭% লভ্যাংশ ঘোষণা জুলাই থেকে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইনের ধারায় সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ, ভয়ে আছেন ব্যাংক মালিকরা এনসিবি কারসাজির অভিযোগ ১৮ বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক বদলি নিয়ে গুঞ্জন, উঠছে আইনি প্রশ্নও পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই: গভর্নর

৬ মাসে সরকারের সুদ পরিশোধে ব্যয় ৭১ হাজার কোটি টাকা

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৫৮ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক ঋণ বুলেটিনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যার কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় মেটাতে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে বড় আকারে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা যেকোনো সময়ের বিবেচনায় রেকর্ড। রাজস্ব আদায় না হওয়ায় দেশি উৎস থেকে ঋণ বাড়ছে, বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে। এ অর্থবছরের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯ মাসেই ছাড়িয়ে গেছে।

ঋণ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকার এই ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর সবচেয়ে বেশি সুদ পরিশোধ করেছে। যার পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, একই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ পাঁচ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল আট হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি: চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের দেশি-বিদেশি উভয় খাত থেকেই ঋণ বেড়েছে। এ সময় মোট ঋণ বেড়েছে ৬২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৫২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে বুলেটিনে বলা হয়েছে, মুদ্রার ঝুঁকি থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিদেশি ঋণের তুলনায় দেশীয় ঋণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারের ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে সরকার একদিকে দেশীয় তারল্য বৃদ্ধি করছে এবং একই সঙ্গে বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি কমাচ্ছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন শেষে যা ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর শেষে দেশি উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি উৎসের ঋণ স্থিতি হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঋণ গ্রহণের ধারা দেশীয় বাজারভিত্তিক উপকরণের দিকে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএফআই) থেকে বৈদেশিক ঋণের কম ছাড়ের কারণে ঘটেছে। এই পরিবর্তনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করছে, যা মুদ্রা ঝুঁকি কমায় এবং বৈদেশিক ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্থিরতা থেকে জাতীয় বাজেটকে রক্ষা করে।

দেশীয় ঋণ বৃদ্ধি সাধারণত ‘ক্রাউডিং আউট’ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করলেও বর্তমান পরিস্থিতি একটি বিশেষ সুযোগের তৈরি করেছে। তাদের মতে, ভালো ব্যাংকগুলোয় উচ্চ তারল্য, সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার নিম্নমুখী এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে বেসরকারি খাতকে চাপ না দিয়েই টেকসইভাবে দেশীয় অর্থায়ন সম্ভব।

এই অভ্যন্তরীণ তারল্যকে কাজে লাগিয়ে সরকার একটি আরো স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলছে, যা বেসরকারি ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি না করে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আমার দেশ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com