নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, রোববার (৪ জানুয়ারি) এই বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য এবং ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপকরা।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট দাখিল করে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করেন। পরে এই অর্থ নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া ঋণের বিপরীতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ী সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ আরও ৩০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা আদায় না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
দুদক জানায়, প্রস্তাবিত মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ (জালিয়াতি সংক্রান্ত), ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হবে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ জালাল খান মজলিশ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক খাদিজা আক্তার, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, শাখা ব্যবস্থাপক ও পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সাবেক সদস্য। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালকরাও আসামি তালিকায় রয়েছেন।
আসামিদের তালিকায় সর্বশেষ নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ড. মো. কবির আহমেদকে। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক পর্যবেক্ষক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।
দুদক বলছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দ্রুতই সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে।
Leave a Reply