1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
বীমা কীভাবে কাজ করে? - Business Protidin

বীমা কীভাবে কাজ করে?

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের: বীমা হলো একটি আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে প্রিমিয়াম বা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি বীমা কোম্পানির কাছে স্থানান্তর করা হয়। মূলত, অনেক মানুষের কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে একটি ‘রিস্ক পুল’ (ঝুঁকির তহবিল) তৈরি করা হয়, এবং যার ক্ষতি হয়, তাকে সেই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়। তবে লাভজনক হওয়ার জন্য, বীমা কোম্পানিগুলো ক্ষতির ঝুঁকি প্রশমিত করতে কিছু নির্দিষ্ট কৌশল ব্যবহার করে থাকে।

বীমা কোম্পানিগুলো কয়েকটি ধাপে কাজগুলো সম্পাদন করে

আন্ডাররাইটিং: আন্ডাররাইটিং প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক পলিসিধারীর ঝুঁকি, যেমন—বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ড্রাইভিং রেকর্ড, অবস্থান বা পেশা মূল্যায়ন করা হয়। এরপর অ্যাকচুয়ারিরা গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করে ভবিষ্যতের দাবির পূর্বাভাস দিয়ে প্রিমিয়াম গণনা করেন। বীমা কোম্পানির লক্ষ্য হলো পরিশোধের চেয়ে বেশি প্রিমিয়াম আদায় করা, যার ফলে আন্ডাররাইটিং থেকে মুনাফা হয়।

বিনিয়োগ: বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম হিসেবে সংগৃহীত অর্থ বিনিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং মূলধনের শর্ত পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল রিজার্ভ (অর্থাৎ, দাবি মেটানোর জন্য পরিশোধযোগ্য তহবিল) রাখারও অনুমতি দেওয়া হয়। এই বিনিয়োগগুলো কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব তৈরি করে।

পুনর্বীমা: কিছু বীমা কোম্পানি বড় পুনর্বীমা কোম্পানিগুলো থেকে নিজেদের বীমা ক্রয় করে, যা বড় অঙ্কের দাবির বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত স্তর প্রদান করে।

হার নির্ধারণ: প্রত্যাশিত ক্ষতি পূরণের জন্য হার যথেষ্ট বেশি হতে হবে, কিন্তু তা অতিরিক্ত বা বিভিন্ন শ্রেণীর ঝুঁকির মধ্যে অন্যায্যভাবে বৈষম্যমূলক হবে না। উদাহরণস্বরূপ, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের জন্য জীবন বীমার খরচের পার্থক্য অন্যায্যভাবে বড় হতে পারে না।

আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড: কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই নির্দিষ্ট হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, রাজ্য বীমা কমিশনারদের কাছে ন্যূনতম জামানত রাখতে হবে, দাবি পরিশোধের জন্য ন্যূনতম পরিমাণ মূলধন উপলব্ধ রাখতে হবে এবং বীমা কোম্পানি দাবি পরিশোধ করতে না পারলে তার জন্য কার্যপ্রণালী প্রস্তুত রাখতে হবে।

ঝুঁকি একত্রীকরণ, প্রতিকূল নির্বাচন, এবং সুবিধাবাদী বাছাই: ঝুঁকি একত্রীকরণ হলো বিভিন্ন ব্যক্তিকে একটি দলে একত্রিত করার প্রক্রিয়া, যাতে কিছু লোকের দাবি করার ঝুঁকি বেশি থাকে এবং অন্যদের ঝুঁকি কম থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একটি স্বাস্থ্য বীমার ঝুঁকি পুলে সুস্থ এবং কম সুস্থ ব্যক্তিদের একসাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে প্রিমিয়ামের চেয়ে দাবির ঝুঁকি বেশি হওয়ার মধ্যে ভারসাম্য আনা যায়। সমস্যাটি হলো, উভয় পক্ষেরই (বীমাকারী এবং বীমাগ্রহীতা) নিজেদের অনুকূলে ভারসাম্য আনার জন্য বিশেষ স্বার্থ থাকতে পারে।

তবে বীমা খাতে কিছু ব্যতিক্রম কাজ করা চেষ্টা করে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি দেশের শিল্পে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ব্যাপক কাজ করছে। এছাড়াও নতুন আইডিয়া এবং জনসাধরণের কাছে সহজে বীমা সেবা পৌঁছে দিতে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মোবাইল নেটয়ার্কেও অর্থাৎ ইন্টারনেট বান্ডেল কেনায়ও বীমা সেবা পাওয়া যাবে এই বিষয়েও নানান প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা বাস্তবায়ন হলে বীমা খাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com