1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
রহিমা ফুডের শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে ডিএসই - Business Protidin
শিরোনাম :
বন্ধ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বিএএসএম ডিএসইতে চাকরিচ্যুতি বৈধ বলছে কর্তৃপক্ষ, পুনর্বহালের দাবি ভুক্তভোগীদের গুজবের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রোটেক্টিভ লাইফে হেড অব ইন্ডিভিজুয়াল বিজনেসের দায়িত্ব পেলেন আব্দুল মান্নান সরকার জুয়া-হুন্ডি ঠেকাতে আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করছে বিএফআইইউ রহিমা ফুডের শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে ডিএসই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ ডিবিএল গ্রুপের সব পোশাক কারখানা গ্যাস বিলের ৯৮১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ইউনাইটেড পাওয়ারের, সত্যতা পেয়েছে দুদক

রহিমা ফুডের শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে ডিএসই

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডের শেয়ারের দামে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তকারী দল।

তদন্তে উঠে এসেছে, একই ব্যক্তি একাধিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ব্যবহার করে নিজের কাছেই শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। এতে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন না হলেও বাজারে কৃত্রিম লেনদেন ও চাহিদা তৈরি হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ।

বিএসইসির নির্দেশনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত দল ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে। তদন্তে দেখা যায়, এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র আড়াই মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১০০ টাকা বা ১৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী তিনটি পৃথক বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করেছেন। হিসাবগুলো ছিল এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, শেলটেক ব্রোকারেজ ও আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজে। কোথাও তার নাম ‘মো. দেলোয়ার হোসেন’, আবার কোথাও ‘ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে তিনি ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৩টি শেয়ার কিনেছেন এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৩টি শেয়ার বিক্রি করেছেন। মোট লেনদেনের প্রায় ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল তার মাধ্যমে। তিনি ছিলেন শেয়ারটির সর্বোচ্চ ক্রেতা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রেতা।

তদন্ত প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সকাল ১০টা ১০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বিও হিসাবের মধ্যে হাওলা লেনদেনের মাধ্যমে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার স্থানান্তর করেন। প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩৪ টাকা।

এ লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনই ছিলেন তিনি নিজে। ফলে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা অপরিবর্তিত থাকে। তদন্তে বলা হয়েছে, এ ধরনের লেনদেন বাজারে কৃত্রিম চাহিদা ও সক্রিয় লেনদেনের ধারণা তৈরি করে, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(৩) ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

তদন্তে আরও দেখা যায়, আব্দুল মোবিন, আব্দুল হাফিজ জোয়ারদার তুহিন, তাসনিয়া তাহসিন, কৃষ্ণ দাস, বিজন পাল, ইমরানী, নাজমুল হোসেন, আলমগীর কবীর, সত্যজিৎ মজুমদার ও এ কে এম গোলাম বোহলুলও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক কোনো সম্পর্ক বা সমন্বিত লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আব্দুল মোবিন ২ লাখ ৬৩ হাজার ২১টি শেয়ার কিনে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪০২টি বিক্রি করেন। আব্দুল হাফিজ জোয়ারদার তুহিন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭০টি শেয়ার কিনে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০টি বিক্রি করেন। তাসনিয়া তাহসিন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৪টি শেয়ার কিনে একই সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করেন।

তদন্তে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি এখন বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা, নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com