নিজস্ব প্রতিবেদক: ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান পর্ষদ ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর এবং গ্রাহকদের বীমা দাবির টাকা দ্রুত পরিশোধসহ চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানিটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি জানায়।
তারা বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফারইস্টের প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে কোম্পানির দায়িত্ব তুলে দিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এসময়ে তারা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্নীতিবাজদের দোষর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও পদত্যাগ করার দাবি জানান। একইসাথে তারা ফারইস্ট লাইফের সৎ এবং নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদেরকে এই আন্দোলেন একাত্মতা ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন নুরুল্লাহ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমরা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রতিষ্ঠানকাল থেকে কর্মরত। ব্যক্তিগত ও সততার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছি। অথচ ফারইস্ট লাইফের পরিচালনা পর্ষদের কতিপয় অসাধু পরিচালকের দুর্নীতির কারণে আমরাই আজ চাকরিচ্যুত।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ছাত্রছায়ায় তারা আমাদের অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করেছে, যার দোষর বর্তমান সিইও আপেল মাহমুদ। আমরা শত শত কর্মী ও কর্মকর্তা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পরিবার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।
নুরুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান বীমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ আমাদের অভিভাবক। আমি দেখেছি, আইডিআরএ’র মাননীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী স্যার বীমা খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এখন সুষ্ঠ তদন্ত করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দুর্নীতিবাজ ও তাদের দোষরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন। আমাদের সাথে যারা অন্যায় করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আন্দোলনের নেত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, আমাদের এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। ফারইস্ট লাইফের কোন ক্ষতি হোক তা আমরা চাই না। আমরা বীমা খাতের উন্নয়নের স্বার্থে এ আন্দোলন করছি। দেশকে এবং ইন্স্যুরেন্সকে শক্তিশালী করতে আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।
আইডিআরএ’র দৃষ্ট আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমরা জানি আইডিআরএ ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কোম্পানির বোর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে এবং স্বচ্ছ বোর্ড গঠনে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আপনারা কেন ফারইস্টের ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন না তা আমরা জানি না। আপনারা কেন নিরব আছেন তাও আমরা জানি না।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি- যত দিন যাবে ফারইস্ট ততটাই ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই দুর্নীতিবাজ পর্ষদকে ভেঙ্গে দিয়ে কোম্পানিকে রক্ষা করার জন্য এবং গ্রাহকস্বার্থ রক্ষায় যারা আজকে ফারইস্টকে প্রতিষ্ঠা করেছে সেইসব উদ্যোক্তাদের হাতে ফারইস্টের দায়িত্ব তুলে দিতে আইডিআরএ’র হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
রোকেয়া আরও বলেন, আইডিআরএ’র পাশাপাশি আমরা অর্থ উপদেষ্টারও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনার আর বসে থাকবেন না। ফারইস্টের গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় আপনারা আর চুপ থাকবেন না। আপনারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টের সাথে কোন সমঝোতা করব না। তারা যতক্ষণ না পদত্যাগ করতে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। সালমান এফ রহমানের দোষর ড. ইব্রাহিম হোসেনকে তিনি পদত্যাগ করার দাবি জানান। সেই সাথে তাদের অন্যায়ের জন্য শাস্তিরও দাবি জানান রোকেয়া।
চাকরিচ্যুত আরেক বীমা কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, আমাদের শত শত বীমা গ্রাহক তাদের দাবির টাকা পাচ্ছে না। আইডিআরএ’র যারা দায়িত্বে আছেন আমরা তাদের বলছি, আমাদের কান্না কি আপনাদের কাছে পৌঁছে নাই। আপনারা আসেন, তদন্ত করেন। বীমা দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেন। সেইসাথে দুর্নীতিবাজ পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। বঞ্চিত গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির টাকা ও মরনোত্তর বীমা দাবি দ্রুত পরিশোধ করা।
পলায়নকারী হাসিনা সরকারের মদদপুষ্ট জবরদখলকারী সালমান এফ রহমানের গঠনকৃত পরিচালনা পর্যদের পদত্যাগ এবং আত্মসাতকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার ও অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বোর্ড পুনর্গঠন ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতকারীদের আইনের আওতায় এনে অর্থ উদ্ধারসহ তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের পদত্যাগসহ কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা।
ভাইস চেয়ারম্যান ড. মো. ইব্রাহিম হোসেন খানের পদত্যাগসহ কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা। দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক কাজের সহযোগী, অদক্ষ, অযোগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আপেল মাহমুদকে বহিষ্কার করা।
এ ছাড়াও সালমান এফ রহমান ও শেখ কবির হোসেনের নিয়োগকৃত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে চাকরি থেকে বহিস্কার করা।
Leave a Reply