নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের দুর্বল ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং ব্যাংকগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে সহজ শর্তে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পের আওতায় এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে চুক্তিতে সই করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের ঘাটতি, দুর্বল তদারকি, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক সক্ষমতার সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় ব্যাংকিং খাতের তদারকি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় ক্রয় সক্ষমতা উন্নয়নেও কাজ করা হবে।
এ ছাড়া পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্ত বা পিবিসির মাধ্যমে আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রমের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অর্থ পরিশোধের সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নে কাজ করা হবে। ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
ঋণের শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক দেড় শতাংশ সুদ দিতে হবে। আর উত্তোলন না করা অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিটমেন্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ মোট ২৫ বছর সময় পাওয়া যাবে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতে সংস্থাটির অর্থায়ন রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় শুধু ঋণ বা অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। অর্থের যথাযথ ব্যবহার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে এর সুফল নির্ভর করবে।
Leave a Reply