নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই খাতের কোম্পানি হিমাদ্রি লিমিটেডের শেয়ারদর ছিল ৩৮ টাকা। সেই শেয়ারটির দর মাত্র ৭ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৯ হাজার টাকায় নিয়ে যায়। এরপর শেয়ারটির দর টানা কমতে থাকে। আজ বুধবারও ৮ শতাংশের বেশি কমে শেয়ারটির দর ৯০০ টাকায় নেমেছ।
এসএমই খাতের সেই আলোচিত শেয়ারটির নাম ‘হিমাদ্রী লিমিটেড’। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এতটা দরবৃদ্ধির ঘটনা এটিই একমাত্র শেয়ার। মাত্র ৭ মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছিল প্রায় ২৩ হাজার শতাংশ।
কারসাজি চক্র এই শেয়ার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও জরিমানা হয়েছিল মাত্র দেড় কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল হিমাদ্রী লিমিটেডের শেয়ারদর ছিল মাত্র ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা। কারসাজি চক্রের অংশগ্রহণে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর শেয়ারটির দর বেড়ে হয় ৮ হাজার ৯৪১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর থেকে শেয়ারটির দর কমতে থাকে। আজ লেনদেন শেষে এটি ৯০০ টাকায় নেমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসএমই এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় কারসাজি চক্র অল্প সময়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছে। প্রতিদিন অল্প সংখ্যক শেয়ার নিজেদের মধ্যে লেনদেনের মাধ্যমেও এই ধরনের কোম্পানিতে শেয়ারদর বাড়ানো-কমানোয় বড় প্রভাব বিস্তার করা যায়। প্রথমে কারসাজি চক্র নিজেদের মধ্যে লেনদেন করে শেয়ারের দাম বাড়ায়। পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চ দরে বিক্রি করে বেরিয়ে যায়।
মাত্র ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা মাত্র ২৬ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশের মালিকানা রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে। দেড় শতাংশ শেয়ারের মালিকানা সরকারের হাতে এবং সাড়ে ৩২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
এই শেয়ারটির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি নিয়ে ২০২৪ সালে তদন্ত করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তৎকালীন কমিশন। ওই তদন্তে ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া কারসাজির চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬ হাজার ৪৭৪ টাকা পর্যন্ত দরবৃদ্ধির তদন্ত হয়েছে। পরে আরো অন্তত দু’মাস শেয়ারটিতে কারসাজি অব্যাহত ছিল। এই সময়ে শেয়ারটির দর আরো ২ হাজার ৪৬৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ৯৪১ টাকায় লেনদেন হয়।
বিএসইসির ওই তদন্তের আলোকে তখন এক ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। অথচ ওই তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ৮২ কোটি টাকা মুনাফা লুফে নেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছিল। অর্থাৎ নামমাত্র জরিমানা করা হয়েছিল তখন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হিমাদ্রী লিমিটেডের শেয়ারে বড় পরিমাণ লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ৩১ জুলাই কোম্পানির ৭ হাজার ৭২৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা ছিল টানা ২ বছরের অধিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। গত ২১ সেপ্টেম্বরও কোম্পানির ৫ হাজার ৮০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আজও ১ হাজার ১৬২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
ওভার দ্যা কাউন্টার মার্কেট (ওটিসি) থেকে হিমাদ্রী লিমিটেডসহ ৪টি কোম্পানি ও দুটি নতুন কোম্পানি নিয়ে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডিএসইর এসএমই প্লাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্লাটফর্মটি চালুর ৪ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো এই মার্কেটে এখনো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তেমন বাড়েনি।
Leave a Reply