নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো একীভূত করার সুপারিশ করেছে। তবে সুপারিশে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ব্যাংক যেমন সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে নয়, বরং দুর্বল ব্যাংকগুলো আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মে একীভূত করা হবে। এতে তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং অতিরিক্ত খরচ হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “যদি ব্যাংকগুলো ঋণ আদায় করতে না পারে, খেলাপিদের জামানত বিক্রি করে তা তারল্যে রূপান্তর করা যাবে।”
এদিকে জনতা ব্যাংকের মাত্র তিন গ্রাহকের কাছে আটকে রয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। শীর্ষ ১২০ ঋণ খেলাপির কাছে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট ৮৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক ১১,৫০০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ১০,১০০ কোটি এবং সোনালী ব্যাংক ৬,৭০০ কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না।
সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান বলেন, “অন্যান্য ব্যাংকের যাচাই-বাছাইহীন ঋণগুলো আদায় করা কঠিন। এই ঋণগুলো সোনালী ব্যাংকের ওপর এলে ব্যাংকের সম্পদের মানে প্রভাব পড়বে।”
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দুর্বল ব্যাংক একীভূত করলে স্বল্পমেয়াদে সহায়তা মিললেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন বলেন, “জনতা ব্যাংকের ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ অপ্রদেয়। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করতে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
পরিকল্পনায় ব্যাংকগুলো পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ও সুশাসন নিশ্চিত করাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply