নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বহুজাতিক সিগারেট উৎপাদক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবিসি) বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটি প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা সিগারেট বিক্রি করেছে। তবে, পরিমান বিবেচনায় আলোচিত সময়ে কোম্পানির সিগারেট বিক্রি কমেছে ২৮ শতাংশের কাছাকাছি। মূলত, বছরের ব্যবধানে সিগারেটের দাম বাড়ায় কোম্পানিটির বিক্রির পরিমান কমা সত্বেও বিক্রয় মূল্য বাবদ বেশি আয় হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে বিএটিবিসির মোট সিগারেট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ৯০ লাখ শলাকা, আগের হিসাব বছরে বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৩০ কোটি ৫০ লাখ শলাকা। অর্থাৎ পরিমান বিবেচনায় বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সিগারেট বিক্রি কমেছে ১ হাজার ৪০৬ কোটি ৬০ লাখ শলাকা বা ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
আলোচিত ৯ মাসে কোম্পানির মোট সিগারেট বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ৯৫০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। আগের বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩০ হাজার ৮৪৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ টাকার অংকে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সিগারেট বিক্রি বেড়েছে ২ হাজার ১০৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে বিএটিবিসির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৭২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১ হাজার ৩২২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অথাৎ আলোচিত ৯ মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে ৬০২ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ৪৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এদিকে, আলোচিত ৯ মাসে বিএটিবিসির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ২২ পয়সায়।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শুল্ক বেড়ে যাওয়া এবং তাদের ঢাকার কারখানা স্থানান্তর হওয়ায় খরচ বেড়েছে। এসব কারণে তাদের আয় বৃদ্ধি হওয়া সত্বেও নিট মুনাফা কমেছে।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএটিবিসি। এর আগে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিএটিবিসির অনুমোদিত মূলধন ৫৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনও একই। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ২২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে কোম্পানির বিদেশী মালিকদের কাছেই রয়েছে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা।
Leave a Reply