নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবসা এখন অনেকটাই ঋণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে কোম্পানির বড় ব্যয়ের খাতও এখন সুদভিত্তিক হয়ে পড়েছে। আর এই সুদ ব্যয় কোম্পানির ব্যবসাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। গুণতে হচ্ছে ধারাবাহিক লোকসান।
কোম্পানির ২০২৪-২৫ আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে নিরীক্ষক তার মতামত জানিয়েছে।
নিরীক্ষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর চলতি মূলধন স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপর নির্ভরশীল। তবে ব্যাংকের সুদহার বাড়লে কোম্পানিটির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই কোম্পানিটির ব্যয়ের বড় অংশ সুদজনিত ব্যয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে মোট ঋণের (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা; যা কোম্পানিটির ইক্যুইটির বা নিট সম্পদের ৭৩ শতাংশ। এই ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটিকে আলোচিত অর্থবছরে সুদজনিত ব্যয় গুনতে হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা; যা কোম্পানির মোট ব্যয়ের ৪৮ শতাংশ। এটি কোম্পানির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সচেতন থাকা দরকার বলে মনে করছে নিরীক্ষক।
নিরীক্ষক আরো জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহিবেলের (ডব্লিউপিপিএফ) টাকা বিতরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো কর্তৃপক্ষ ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ওই তহবিলের অর্থ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ না করে, তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। এই তহিবিলের বিপরীতে শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এদিকে, কোম্পানিটিতে ৪৭ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এরমধ্যে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, ওই অর্থ তিন বছরের বেশি সময় পূর্বের; যা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তরের বিধান থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা করেনি।
সার্বিক বিষয় জানতে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর কোম্পানি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসাইনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দর দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
Leave a Reply