নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিমা খাতে পলিসিধারীদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি এখনো অপরিশোধিত। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসব দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর দাবি পরিশোধের হার ৫৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএর কনফারেন্স রুমে অপরিশোধিত বিমা দাবি পরিশোধের দ্বিতীয় দফার কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বিমা খাতে পলিসি দাবির নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার এত কম হওয়া উদ্বেগের বিষয়। পুরো বিমা খাতে অপরিশোধিত বা বকেয়া দাবির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
বকেয়া দাবি নিষ্পত্তিতে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব বৈঠকে কেন পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে না এবং কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু জটিলতার কারণে দাবি পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এসবিসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, সাত থেকে আটটি বিমা কোম্পানিকে তুলনামূলকভাবে সমস্যাগ্রস্ত বা ‘ডিস্ট্রেসড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির আর্থিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলাদাভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলো নয়, প্রায় ৭২টি বিমা কোম্পানির সঙ্গেই নিয়মিত বৈঠক করছে আইডিআরএ। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দাবি পরিশোধের পরিস্থিতি এসব বৈঠকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আইডিআরএর লক্ষ্য সম্পর্কে চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ৫৭ শতাংশ থাকা দাবি নিষ্পত্তির হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্য অর্জন করা গেলে বিমা খাতে পলিসিধারীদের দাবি নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
এদিকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর অপরিশোধিত দাবি পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ দফায় মোট ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা পরিশোধ করা হবে।
আইডিআরএ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানির সারাদেশের পলিসিধারীদের এসব অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply