নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতের বিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। কাতারের রাজধানী দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, বন্দর, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে সংস্থাটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড আয়োজিত ফোরামের বিশেষ অধিবেশনে এসব সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রায় ১০০ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন।
অধিবেশনে ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং বড় অভ্যন্তরীণ বাজারকে বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।
নাহিয়ান রহমান রচি জানান, উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোতে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি জানতে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
এদিকে ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে প্রকল্প প্রস্তুত, নীতিগত সমন্বয় এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
Leave a Reply