নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত প্রবিধানমালায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে একদিকে অভিজ্ঞতার মানদণ্ড আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, অন্যদিকে বিশেষ ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৪৮ ও ৮০-এর ক্ষমতাবলে সরকারের অনুমোদনক্রমে জারি করা এস.আর.ও. নং ৪৭৪-আইন/২০২৫-এর মাধ্যমে এই সংশোধনী কার্যকর হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা, ২০১২-এর অধিকতর সংশোধনী গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
অভিজ্ঞতার নতুন মানদণ্ড: সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বীমা খাতে ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১ বছর সিইও, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার পদে অথবা ৩ বছর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে প্রশাসনিক বা অন্যান্য দায়িত্বে অন্তত ১ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের সুযোগ: তবে সরকারি মালিকানাধীন (৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার সরকারের) বীমা কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহুজাতিক বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে আইডিআরএর হাতে। বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সরাসরি বীমা খাতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদ বলতে সিইও বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, প্রধান অপারেশনস কর্মকর্তা, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা, প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পেশাগত ডিগ্রিধারীদের সুবিধা: সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, অ্যাকচুয়ারিয়াল ফেলো বা অ্যাসোসিয়েট (যুক্তরাজ্য/যুক্তরাষ্ট্র), চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট (যুক্তরাজ্য), সিএলইউ (যুক্তরাষ্ট্র), আইসিএবি, আইসিএইডব্লিউ, এসিসিএ, আইসিএমএ, সিএফএ ও সিপিএসহ স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রি থাকলে প্রয়োজনে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
নিয়োগ ও অপসারণে কঠোরতা: নতুন সংশোধনীতে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানিলন্ডারিং বা আর্থিক অনিয়মের কারণে পূর্বে অপসারিত ব্যক্তিকে সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিচালক, উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার বা উপদেষ্টা থাকলেও তিনি মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য হবেন।
এ ছাড়া মুখ্য নির্বাহী অপসারণের ক্ষেত্রে আইডিআরএর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরাসরি অপসারণের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।
নবায়ন ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন: সিইও নিয়োগ ও নবায়নের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নের ক্ষেত্রে ‘কাজের যোগ্যতা’র পরিবর্তে ‘কর্মসম্পাদনের মান ও পরিমাণ’ বিবেচনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
Leave a Reply