1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
‘বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতায় ব্যাহত হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ’ - Business Protidin

‘বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতায় ব্যাহত হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ’

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ত্ব বিষয়ক বিরোধ ক্রমাগত বাড়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “ব্যবসায় বিরোধ নিষ্পত্তি ও চুক্তি প্রয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি” শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আবদুর রহিম খান উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের নিম্ন ও উচ্চ আদালত সমূহে বর্তমানে অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা প্রায় ৪ মিলিয়ন। মামলা কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘসূত্রিতা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে ব্যাহত করছে এবং ২০০১ সালে আরবিট্রেশন অ্যাক্ট হলেও, তা এখনও ভালোভাবে কার্যকর হয়নি। এ অবস্থার আলোকে অভিজ্ঞ বিচারকদের নিয়োগের মাধ্যমে তিনি একটি ‘আলাদা কমার্শিয়াল কোর্ট’ স্থাপন এবং আইনী প্রক্রিয়ার সংষ্কার একান্ত অপরিহার্য বলে মত প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনায়ন সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জনবহুল এদেশে আদালতে মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিকে আরো অসহনীয় করে তোলছে, যার ফলে স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে আরবিট্রেশন আইন করা হলেও, বাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়নি।

বাংলাদেশ নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইইউ নিবীড়ভাবে কাজ করেছে, যা এদেশের মানুষের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের দিকে যাচ্ছে এবং রপ্তানি বুহুমুখীকরণের জন্য জোরারোপ করছে, তবে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষনে কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন করতে হবে, যেটি বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়াগে সম্প্রসারিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকার এ বিষয়টির উপর অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্ব দিবে। বাংলাদেশের আরবিট্রেশন কার্যক্রম গতি আসলে বর্তমানের বিনিয়োগ স্থবিরতা হ্রাস পাবে রাষ্ট্রদূত মত প্রকাশ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশের লজিস্টিক ও শিপিং খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন ।

রাজাহ অ্যান্ড থান-এর কো-হেড ভিকনা রাজা বলেন, অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে শক্তিশালী কাঠামোর কারণে সিঙ্গাপুরের বৈদেশিক বিনিয়োগ ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি জানান, বিনিয়োগ আকর্ষনে আইনী কাঠামোর আমূল সংষ্কারের কোন বিকল্প নেই। সেই সাথে স্পেশালাইজড কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন ও আরবিট্রেশন আইন সংষ্কারের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

মুক্ত আলোনায় ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্নে সরকারের আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের বেশ অভাব রয়েছে এবং এ অবস্থার উন্নয়ন না হলে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। বাণিজ্যিক বিরোধগুলো সমাধানে আদালতে না গিয়ে, আরবিট্রেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মোঃ সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট খাতের স্টেকহোল্ডারবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com