1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
জীবন বীমা খাতে তামাদি পলিসি সোয়া তিন লাখ - Business Protidin
শিরোনাম :
প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত দেশে সরকারি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম শুরু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক’ গঠনের উদ্যাগ সরকারের পঞ্চমবারের মতো সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন সোনালী লাইফের বেতন কমছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ কর্মীদের ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি হতে লাগবে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা লাভেলো আইসক্রিমের এমডির পরিবারসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা ও সফলতার মৌলিক ভিত্তি: আমির খসরু দারিদ্র্যসীমার নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি

জীবন বীমা খাতে তামাদি পলিসি সোয়া তিন লাখ

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা খাতের কলঙ্ক সময়মত দাবি পরিশোধ না করা। তারমধ্যে খাতের জন্য আরও আতঙ্ক তামাদি পলিসি। দেশে ৩৫টি জীবন বীমা কোম্পানি থেকে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পলিসি তামাদি বা বন্ধ করেছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৬৬ জন গ্রাহক। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ত্রৈমাসিক হিসাবে পলিসি বন্ধ করেছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৬৬ জন গ্রাহক। আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি পলিসি তামাদি হয়েছে সোনালী লাইফে। কোম্পানিটির পলিসি তামাদি হয়েছে ৭৩ হাজার ২৬৭টি। পলিসি তামাদিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ, এর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭৬৩টি।

২০২৩ সালে তামাদি হওয়া জীবন বীমা পলিসির সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার। ২০২৪ সালে পলিসি বন্ধ করেছেন ১২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৮ জন গ্রাহক।

‘তামাদি’ একটি আরবি শব্দ, এর আভিধানিক অর্থ কোনো কিছু বিলুপ্ত হওয়া কিংবা বাধাপ্রাপ্ত হওয়া। বীমা ব্যবসার সঙ্গে তামাদি শব্দটি বহুল পরিচিত। পলিসিহোল্ডার যদি সময়মতো প্রিমিয়াম জমা না দেন, তাহলে নির্দিষ্ট সময় পরে পলিসিটি তামাদি বা বন্ধ হয়ে যায়। আর পলিসি বন্ধ হলে গ্রাহক বীমা কাভারেজ থেকে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়া টাকাও ফেরত পান না।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ও পুঁজিবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বীমা খাত। তবে বিভিন্ন কারণে সম্ভাবনাময় এই খাতটি ‘অনাস্থায়’ নিমজ্জিত। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকলেও ফিরছে না শতভাগ আস্থা। উপরন্তু, পুরো খাতে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা। এর সঙ্গে বছর বছর পলিসি তামাদি বা বন্ধ হওয়ায় সংকট দীর্ঘ হচ্ছে।

বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জীবন বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা (এফএ) পলিসি খোলার জন্য যতটা মনোযোগী থাকেন, পরে আর সেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। পলিসি গ্রাহকদেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ। অসাধু শ্রেণির বীমা প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিয়ে তা আত্মসাতের ঘটনাও রয়েছে।

আইডিআরএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো মোট বীমা দাবির মাত্র ৩৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করেছে। অনিষ্পন্ন আছে ৬৫ শতাংশ বীমা দাবি। ২০২৪ সালের শেষে জীবন বীমার উত্থাপিত দাবির মাত্র ৫৭ শতাংশ নিষ্পত্তি করেছিল, যা ২০২৩ সালে ছিল ৬৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট বীমা দাবির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৫৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যার মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ৬৬ লাখ।

২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে পলিসি তামাদিতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেলটা লাইফ। এই কোম্পানির তামাদি পলিসির সংখ্যা ২৭ হাজার ৩৭৬টি। তামাদিতে এরপরেই রয়েছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। বিদেশি এই কোম্পানির পলিসি তামাদি হয়েছে ২০ হাজার ২৭৮টি।

একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, তামাদি হওয়া পলিসির বেশিরভাগই ক্ষুদ্র বীমা। অনেকে কিছুদিন পর একসঙ্গে টাকা দিয়ে পলিসি চালু করেন। অনেক গ্রাহক কয়েক মাস পর একসঙ্গে সব টাকা দিয়ে আবার পলিসি চালু করেন। এ কারণে পলিসি বাতিল হওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে আকিজ তাকাফুল লাইফের ২ হাজার ৬৯২টি, আলফা ইসলামী লাইফের ১৩ হাজার ৩৫৭টি, আস্থা লাইফের ১ হাজার ৪৯০টি, বায়রা লাইফের ৪২১টি, বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ৭ হাজার ৭১৯টি, বেস্ট লাইফের ১ হাজার ৫৮০টি, চার্টার্ড লাইফের ৪ হাজার ১৭৫টি, ডায়মন্ড লাইফের ৬৫৮টি, ফারইস্ট লাইফের ৮৩৬টি, গোল্ডেন লাইফের ৬ হাজার ৭৬৮টি, গার্ডিয়ান লাইফের ৭ হাজার ৬৮টি, হোমল্যান্ড লাইফের ২ হাজার ৩২৭টি, যমুনা লাইফের ১৪০টি, জীবন বীমা কর্পোরেশনের ৩ হাজার ৮৭৫টি, এলআইসি বাংলাদেশের ৪০৭টি, মেঘনা লাইফের ৪ হাজার ৩১৪টি, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের ৪ হাজার ৮৮৮টি, এনআরবি ইসলামিক লাইফের ৫ হাজার ৪০২টি, পদ্মা ইসলামি লাইফের ১ হাজার ৭৫টি, পপুলার লাইফের ১৭ হাজার ৩৪৮টি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৮ হাজার ৯০৮টি, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ৬২১টি, প্রোগ্রেসিভ লাইফের ৩ হাজার ৪৭টি, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের ১ হাজার ১০টি, রূপালী লাইফের ১০ হাজার ৬১২টি, সন্ধানী লাইফের ২ হাজার ৭৯৮টি, শান্তা লাইফের ৯টি, সানলাইফের ১ হাজার ৩০টি, স্বদেশ লাইফের ১৬ হাজার ৬২৫টি, ট্রাস্ট ইসলামি লাইফের ৫ হাজার ১০৯টি এবং জেনিথ ইসলামী লাইফের ১ হাজার ২৭৩টি পলিসি তামাদি হয়েছে।

আইডিআরএর তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি জীবন বীমা পলিসি বাতিল বা তামাদি হয়েছে। ২০০৯ সালে মোট সক্রিয় পলিসির সংখ্যা ছিল এক কোটি ১২ লাখ, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়ায় ৮৫ লাখ ৮৮ হাজারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com