নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আবারও বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। ফলে আগস্ট শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এর আগে খেলাপি ঋণ কমানোর ধারাবাহিকতায় সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। তবে দুই মাসের ব্যবধানে তা আবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ১৬ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। ওই সময় মোট ঋণের ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ ছিল খেলাপি। পরবর্তী প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আরও কমে ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকায় নেমে আসে। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। কিন্তু জুলাই ও আগস্টে নতুন করে খেলাপি ঋণ বাড়ায় আগস্ট শেষে তা ১৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তাদের ঋণ নতুন করে খেলাপি হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তবে বছরের শেষ নাগাদ খেলাপি ঋণের হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সোনালী ব্যাংকের।
এদিকে বড় ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে ব্যাংকটির সাফল্য খুব বেশি নয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শীর্ষ খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে মাত্র ৪১ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে সোনালী ব্যাংক। একই সময়ে অন্যান্য খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৯৮০ কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় রয়েছে হলমার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স ও ওরিয়নসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক খাতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেও সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১৯ শতাংশে রয়েছে। ফলে বড় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নতুন করে ঋণ খেলাপি হওয়া ঠেকানো—দুই দিকেই ব্যাংকটিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সুবিধার কারণে সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমার প্রবণতা দেখা গেলেও সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। সোনালী ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যও তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পুনঃতফসিল বা অন্যান্য নীতিগত সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়ে রাখলে স্থায়ী সমাধান হবে না। বড় ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই এবং নতুন করে ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগামী দিনে খেলাপি ঋণের হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নির্ভর করবে বড় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নতুন খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ওপর।
Leave a Reply