আবদুল্লাহ আল জুবায়ের: আগামীকাল কি হবে তা আমাদের অজানা। তবে আসন্ন অজানা বিপদ থেকে স্বস্থি পেতে পূর্ব পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তাই একটি জীবন বীমা পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। যা সংকটময় সময়ে প্রিয়জনদের জন্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিবে। এটি শুধু মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সমাজে সব শ্রেণীর মানুষের জীবন বীমা একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পরিকল্পনার স্তম্ভ হতে পারে। পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেলে যেভাবে বিপর্যয় নেমে আসে, বীমার আর্থিক সুরক্ষা সেই ঘাটতি পূরণ করে পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অপ্রত্যাশিত সময়ে প্রিয়জনেরা যেন ঋণের বোঝা কিংবা দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপে জর্জরিত না হয়, বীমা সে দায় কাঁধে নেয়। এর ফলে পরিবার নতুনভাবে এগিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
জীবন বীমা শুধু আয় প্রতিস্থাপন নয়, বরং পরিবারের জন্য সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। সন্তানদের উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে পেশাগত প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বীমার মাধ্যমে জোগাড় করা যায়। এতে পরিবারের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকে না। একই সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচ বা সম্পত্তি বণ্টন সম্পর্কিত আর্থিক দায়ও বীমা থেকে মেটানো যায়। অনেক সময় মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে সম্পত্তি হস্তান্তর বা কর পরিশোধের জন্য পরিবারের তাত্ক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন হয়। বীমা সেই জরুরি লিকুইডিটি সরবরাহ করে পরিবারকে স্থিতিশীল রাখে।
মানুষের জীবন এক জায়গায় থেমে থাকে না। বিয়ে, সন্তান জন্ম, চাকরি পরিবর্তন বা আয়ের ওঠানামা- সবকিছুই বীমার প্রয়োজনীয়তা বদলে দেয়। কিন্তু অনেকেই একবার পলিসি নিয়ে তা আর পর্যালোচনা করেন না। এর ফলে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা থাকে না। তাই জীবনের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সঙ্গে বীমার কভার হালনাগাদ করাই সঠিক পদক্ষেপ।
জীবন বীমা একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ। পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেলে যেভাবে বিপর্যয় নেমে আসে, বীমার আর্থিক সুরক্ষা সেই ঘাটতি পূরণ করে পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অপ্রত্যাশিত সময়ে প্রিয়জনেরা যেন ঋণের বোঝা কিংবা দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপে জর্জরিত না হয়, বীমা সে দায় কাঁধে নেয়। এর ফলে পরিবার নতুনভাবে এগিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
এছাড়া জীবন বীমা সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। কিছু বীমা নীতি দীর্ঘ মেয়াদে নগদ মূল্য তৈরি করে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় বা ভবিষ্যতে নগদায়ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বীমা কেবল মৃত্যু সুবিধা নয়, জীবদ্দশাতেও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। ব্যবসায়ীদের জন্য জীবন বীমার গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। একজন মালিকের মৃত্যুর পর ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রায়শই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বীমা সেই সংকট মোকাবিলার কাজে সহায়তা করে থাকে এবং মালিকানা হস্তান্তর বা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ব্যবসাকে স্থিতিশীল রাখে।
সঠিক জীবন বীমা বেছে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন পরিবারের আর্থিক চাহিদা বিশ্লেষণ, নীতির শর্ত ভালোভাবে বোঝা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ। এভাবে জীবন বীমা শুধু একটি পলিসি নয়, বরং একটি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হয়ে ওঠে।
জীবন বীমার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ভুল সিদ্ধান্ত বা অসচেতনতার কারণে সেই সুরক্ষা ভেঙে পড়তে পারে। খরচের পরিবর্তে কভারেজকে প্রাধান্য দেওয়া, অবসর তহবিলের সীমাবদ্ধতা বোঝা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত পলিসি হালনাগাদ করার মাধ্যমে প্রিয়জনদের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা তৈরি করা সম্ভব। সচেতনতার এই ছোট প্রচেষ্টা প্রিয়জনদের জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।
Leave a Reply