নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক দুই কর্মকর্তাকে আটকে রেখে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর, হত্যা চেষ্টা ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও আমানত শাহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া, স্বতন্ত্র পরিচালক মোবারক হোসেন, সাবেক পরিচালক মোশাররফ হোসেন পুস্তিসহ কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন আকন্দ। তিনি গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩৪৭, ৩৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায়।।
এজাহারে বলা হয়েছে, শাহাদাৎ হোসেন আকন্দ প্রায় ১৩ বছর ফারইস্ট ইসলামী লাইফে চাকরি করেন। এক বছর আগে চাকরি ছেড়ে বর্তমানে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কর্মরত আছেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফারইস্ট টাওয়ারের হিসাব বিভাগ থেকে তাকে ডেকে পাঠানো হয় বকেয়া বেতন ও ছুটির নগদায়নের বিষয়ে। সহকর্মী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের গালাগাল করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের নির্দেশে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শাহাদাৎ ও নজরুলকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। পরে দুজনকে জোর করে ভবনের ১৮ তলায় একটি কক্ষে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পেটানো হয়।
বাদীর দাবি, তার কাছ থেকে স্যামসাং মোবাইল ফোন, ৩০ হাজার টাকা নগদ, একটি স্বর্ণের আংটি ও অফিসের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় পিস্তল ঠেকিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা এবং ১০ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার সময় শাহাদাৎ হোসেন তার চাচা রুহুল আমিন আকন্দকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে শাহবাগ থানার এসআই ফয়সালের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে ও তাদের মোবাইল ফোন ফেরত দেয়। আহত অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার অন্যতম আসামি মো. হেলাল মিয়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফের জমি কেনাবেচার অর্থ থেকে ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলারও আসামি।
অন্যদিকে, তার আত্মীয় মোবারক হোসেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের স্বতন্ত্র পরিচালক হলেও, তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর জারি করা কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮ লঙ্ঘন করে ওই পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড অনুযায়ী, কোনো উদ্যোক্তা বা পরিচালকের আত্মীয় কিংবা তাদের স্বার্থসংম্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারেন না। অথচ হেলাল মিয়ার আত্মীয় ও অমানত শাহ গ্রুপের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন একই সঙ্গে বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের কোম্পানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি গভর্নেন্স কোডের ধারা ২(বি)(২)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ ছাড়া, ধারা ৩(বি) অনুযায়ী স্বতন্ত্র পরিচালক হতে হলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মোবারক হোসেনের ক্ষেত্রে সেই যোগ্যতাও নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএসইসি’র আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এই আইন লঙ্ঘনের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।
Leave a Reply