আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের: বাংলাদেশের বীমা খাতে নানান আলোচনা সমালোচনা আছে। তবে সঠিক বিষয়টি জানা সবার দরকার। কিভাবে বীমা কোম্পানি কাজ করে। প্রিমিয়ামের টাকা কি করে ইত্যাদি। বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধের পর সেই অর্থ কোথায় যায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়- এ নিয়ে অনেক গ্রাহকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে।
তবে বিভিন্ন বীমা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রিমিয়ামের অর্থ একটি কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা হয় এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার করা হয়, যা একদিকে গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির কার্যক্রম সচল রাখে। বীমা প্রিমিয়ামের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয় দাবি নিষ্পত্তিতে। কোনো গ্রাহক যদি চুক্তির আওতাভুক্ত ঝুঁকির মুখে পড়েন- যেমন মৃত্যু, অসুস্থতা বা সম্পদের ক্ষতি- তবে এই তহবিল থেকেই তাকে বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করা হয়। ফলে প্রিমিয়ামের মূল উদ্দেশ্যই হলো বিপদের সময় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এর পাশাপাশি, বীমা কোম্পানিগুলো এই অর্থ বিভিন্ন নিরাপদ ও আয়-উৎপাদনকারী খাতে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশে সাধারণত সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজে বড় অংশ বিনিয়োগ করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত। এছাড়া তফসিলি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং রিয়েল এস্টেট খাতেও অর্থ ব্যবহার করা হয়। এসব বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় ভবিষ্যতে গ্রাহকদের বোনাস প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আইন অনুযায়ী, বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়ামের একটি অংশ লিগ্যাল রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এই রিজার্ভ কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে একসাথে বহু দাবি এলে তা পরিশোধ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করে। প্রিমিয়ামের একটি অংশ কোম্পানির পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে কর্মীদের বেতন, অফিস পরিচালনা, এজেন্টদের কমিশন এবং সরকারি কর পরিশোধ। এসব ব্যয় নির্বাহের মাধ্যমে বীমা কোম্পানির সেবাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
সর্বশেষ বলা যায়, সব ধরনের দাবি পরিশোধ, রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং পরিচালন ব্যয় মেটানোর পর অতিরিক্ত অর্থ থাকলে তা কোম্পানির মুনাফা হিসেবে গণ্য হয়। জীবন বীমার ক্ষেত্রে এই মুনাফার একটি বড় অংশ গ্রাহকদের মধ্যে বোনাস হিসেবে বিতরণ করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের আর্থিক সুবিধা বাড়ায়।
জেনে রাখা ভালো, বীমা প্রিমিয়ামের অর্থ শুধু একটি জমা নয়; এটি একটি সুসংগঠিত আর্থিক ব্যবস্থার অংশ, যা গ্রাহকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
Leave a Reply